Featured

বিদায়_বেলার_গান

শেষ বেলাতে ছিল শুধু তার সুপ্ত অভিমান,

তাই এই প্রহরে রেখে গেলাম, বিদায় বেলার গান।

আমার রিক্ত হৃদয় খুঁজে না পায়,

কোনো খরকুটোর নাগাল,

শেষ বিকেলে সূর্য ডোবে,

আজ বৃষ্টির আকাল।

সবই যখন শুকিয়ে গেছে অশ্রু জলের সাথে,

অতীত ঘেঁটে সুখ খোঁজে মন, নিস্পলক রাতে।

স্মৃতির পাতার এক একটা ক্ষন হারিয়ে কেনো যায়?

“একবার ধরতে পারলে মনের মানুষ” আটকে কি রাখা যায়?

যে চায় যেতে নদীর শ্রোতে সূদুর পানে অনেক দূরে।

খুঁজবে শুধু দুচোখ তাকে, হারিয়ে গেলে অনেক ভীড়ে,

তবু হাতটা খুঁজে পাবোনা আর,

স্পর্শকাতর হলে এ প্রান।

শুধু রাখবো মনে ,

নয়ন কোণে বিদায় বেলার গান।।

BENGALI POEM

#রূপকথা

Featured

নারী তুমি রুক্ষ কেন?

যদি জানতে চাও,
আমার এ রুক্ষতার কারন,
তবে বলবো এই সমাজ,
আর তার সকল বাড়ন।

হয়তো কারন তুমিও,
সেও,তোমরা সকলে,
যারা আমার শিশুত্ব
প্রতিনিয়ত টুঁটি টিপে মারলে।

আমার ভিতর আজ নেই আর
সেই প্রানবন্ত হাসি
আমি আজ কঠিন, সংক্ষিপ্ত,
আর কিছুটা ছদ্মবেশী।

যে হাতে ছিল আমার, একরাশ,
নির্মল স্নিগ্ধ ফুল,
সে হাতেই পরালে বেড়ি,
এক গোছা চুড়ি,কানে দুল।

যে পথে ছুটেছি রোজ,
নিস্পাপ সরল মনে।
সে পথে আজ চলি অশালীনতার ভয়ে,
যৌবনের আগমনে।

আমার যত কাঠিনত্ব
ঘেন্না করো তুমি।
যেনো তোমার বিধানেই আজ,
এতোটা কঠিন আমি।

এ কঠিন পোড়ায় আমায়,
‌ কোনো এক নির্দয় অভিসারে।
যেখানে নেই জীবিত আমি,
আছে শুধু তোমার নিয়ম ভরে।

যদি শেষ রাতে আসে ভেসে কানে,
কোনো এক পুরোনো অঙ্গীকার।
আজ হাঁসি রক্তমাখা চোখে,
আর ভাবি যত পরিহাস তোমার।।

BENGALI POEM

জীবনবাহী গাড়ি

তুমি একজন দূরপাল্লার ট্রেনের যাত্রী ।
তুমি নামবে সেখানেই,যেখানে ট্রেন থামবে
সেই ট্রেনে থাকবে অনেক
সহযাত্রী ।
তাদের কারো সাথে ঘটবে
এক আত্মিক যোগ।
কিছু মানুষকে দূর হতে দেখবে,
আলাপ হয়তো হবেনা।
কেউ অন্তরঙ্গ ভাবে মিশবে,
কেউ বা সর্থেই পাশে বসবে।
কারো সাথে অন্তরঙ্গতা এতটাই তুঙ্গে পৌঁছাবে,
যেনো সে বহু দিনের আপন।

তারপর ধীরে ধীরে একে একে সহযাত্রীরা
নেমে যাবে নিজেদের স্টেশনে ।
সার্থান্যেশি যাত্রীটি আগেই সরে পড়বে।
কেউ নেমে বোধহয় ধরবে অন্য কোনো রুটের ট্রেন।
কারো সেইটিই শেষ গন্তব্য ।
সম্ভবত তুমিও কোনো অন্য ট্রেন ছেড়ে এসে
এই ট্রেনটায় উঠেছিলে।
শেষ গন্তব্যে সময় যত আসবে,
ততই ভর্তি কামরা টা ফাঁকা হতে থাকবে।
একজন কি দুজন তোমার পাশে বসে থাকবে তখনও।
ঠিক আগের স্টেশন যখন আসবে তখন দেখবে
হয়তো আর মাত্র একজন শেষ অব্দি ঠিক তোমার পাশে বসে থাকবে।
গন্তব্যের পৌঁছে তোমাকে একাই নামতে হবে প্লাটফর্মে।
মিশে যেতে হবে ওই স্টেশনের ভিড়ের মাঝে।
শেষ পর্যন্ত তোমার পাশে বসে থাকা সহযাত্রীটিও
সেই ভিড়ে অন্তর্ধান হবে।
শেষ হবে এভাবেই আরও একটা যাত্রা ।
শেষ হবে একটা জীবন।

সেইভ্যালেন্টাইন্স ডে টা

সেই ভ্যালেন্টাইন্স ডে টা

❤❤❤❤❤❤❤


গতকাল সন্ধ্যা থেকেই WhatsApp, massenger, Instagram সব জায়গায় ব্লক করে রেখেছে শ্রেষ্ঠা।
নিখিলও যেচে ফোন করেনি আর।

ওদের প্রেম টা কলেজ জীবন থেকেই। বড়ো বড়ো কাজল কালো চোখ আর প্রানবন্ত চঞ্চল মেয়েটার প্রেমে পড়েছিল প্রথম গম্ভীর, শান্ত মেজাজের ক্লাস টপার নিখিল রায়। যদিও এটা প্রথম নয় যে ওরা একে অপরকে ব্লক করেছে, ঝগড়া করেছে।
ওদের সম্পর্কের শুরুই হয়েছিল বড়ো বড়ো ঝগড়া ঝামেলা দিয়ে। বহু বাধা বিপত্তি পেরিয়ে তারা পাঁচ টা বছর কাটিয়েছে একসাথে হাতে হাত রেখে। ঝগড়া যেমন করেছে ততোটাই ভালোবেসেছে ।
যতটা কেঁদেছে ততোটাই হাসিয়েছে একে অপরকে। এই পাঁচ বছরে অনেক টুকরো টুকরো মিষ্টি স্মৃতি জমিয়েছে ওরা । কিন্তু এবারের ইগোর ওজন অনেকটাই বেশি, দুই তরফেই চাপা গুমোট পরিবেশ যেনো। তাই দুজনেই দুজনের বিশ্বাসে বদ্ধমূল।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্র বার, অর্থাৎ দুই দিন আগে।
শ্রেষ্ঠা একটা NGO তে কাজ করে। যথারীতি তাকে অনেক সময়ই এদিক ওদিক যেতে হয়।
সেদিন একটা ফোন আসে কলকাতা থেকে একটু দূরে একটা গ্রামে, পঁচিশ বছর বয়সী এক গৃহবধূকে তার নেশাগ্রস্ত স্বামী পিটিয়ে খুন করার চেষ্টা করছে। উন্মত্তের মত তাকে আক্রমণ করছে। বধুটি কোনক্রমে লুকিয়ে ফোন করে শ্রেষ্ঠাদের অফিসে।
তৎক্ষণাৎ শ্রেষ্ঠা আর তার টিম রওনা দেয় গন্তব্যে।
কলকাতার বুকে নারী নির্যাতন,মেয়েদের জোর করে বিবাহ দেওয়া আটকানো , ধর্ষণমুক্ত সমাজের জন্য হেল্পলাইন ব্যাবস্থা এবং বহু মেয়েদের উদ্ধার করে তাদের স্বনির্ভর প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা এটাই তাদের কাজ, তাই স্বভাবতই ডাক পেয়ে সকলে মিলে ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। শ্রেষ্ঠার সেদিন ছিল খুব জর। সে ভুলে গেলো সে সকালে একজনকে কথা দিয়ে এসেছে যে সে আজ আউটডোর কাজ করবেনা, সেই সাথে তাড়াহুড়োতে ফোনটাও ফেলে চলে যায় নিজের ডেস্ক এ।

সেখানে পৌছতে তাদের পুরো এক ঘন্টা লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখে অভিযুক্ত স্বামী তার স্ত্রী কে রাস্তায় বের করে নির্যাতন করছে,মহিলাটির মাথা দিয়ে চাপ চাপ রক্ত নিঃসৃত হচ্ছে। বাইরে লোকজন ভিড় করে দাঁড়িয়ে দেখছে,কিন্তু কেউ কাছে যাচ্ছেনা। একটি চার পাঁচ বছরের বাচ্চা অঝোরে কাঁদছে,তার কোলে আর একটি ছয় সাত মাসের বাচ্ছা, সেও ভয় সিঁটিয়ে রয়েছে। অনুমান করা যায় তারা ওই দম্পতিরই সন্তান। উদ্ধারকারী দল তৎক্ষণাৎ ছুটে যায় এবং ওই মহিলাকে উদ্ধার করে। এরপর থানা পুলিশ হাসপাতাল এবং এক ঘন্টা রাস্তা পেরিয়ে তাদের ফিরতে ফিরতে রাত দশটা বেজে যায়।

অন্যদিকে সকাল দশটা থেকে একটা ফোন ক্রমাগত বেজে বেজে থেমে গেছে কখন কেউ জানতেও পারেনি। সকল কর্মচারীদের মাঝে একজনের ঘাম ঝরেছে এই February মাসেও , তবু অফিস থেকে সহজে বেরোনোর উপায় নেই। ওদিকে NGO তখন প্রায় ফাঁকা, তাই অফিসের ফোন টাও কেউ তোলেনি। এই পরিস্থিতি কতটা অসহায় তা হয়তো একজন আপনজনই বুঝতে সক্ষম।

রাত দশটায় ক্লান্ত দেহে যখন শ্রেষ্ঠা ফেরে তখন সে টের পায় শরীরে কতটা চাপ পড়েছে, এসেই ধপ
করে বসে পরে নিজের ডেস্কের সামনের চেয়ারে।হঠাৎ বিদ্যুৎ খেলে যায় মাথায়। তৎক্ষণাৎ সে ডেস্ক থেকে ফোন টা বার করে চেক করে দেখে ছিয়ানব্বইটা মিস কল। সে মনে মনে ঠাওর করতে পারে সে ঘটনার ঘনঘটা ।
কারণ এতটা দেরী এই প্রথম সে অভিজ্ঞতা করলো, আর সেই সাথে তার অসুস্থতা, না জানিয়ে যাওয়া এবং ফোন না নিয়ে যাওয়া সব মিলিয়ে আজ বাবা মার সাথে সাথে জবাব দিহি করতে হবে নিখিলকেও।

শ্রেষ্ঠা আগে মা কে ফোন
করে জানায় সে ঠিক আছে ও ফিরছে এবং সাথে সাথেই ফোন টা কেটে নিখিলকে ফোন করে।
ফোন করেই বলে

  • সরি… আমাকে একটা কাজে চলে যে…
  • বাড়ি যা তুই।
    বলেই ফোন টা কেটে দেয় নিখিল।

শ্রেষ্ঠার বন্ধু বান্ধব ,শ্রেষ্ঠার বাড়িতে ফোন করে কোনো খবর না পেয়ে, এবং নিজের পুলিশ বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করেও কোনো খোঁজ না পেয়ে শেষে শ্রেষ্ঠা ফোন করার কিছুক্ষণ আগেই নিখিল শ্রেষ্ঠা দের অফিসে আবার ফোন করে। অবশেষে তখন অফিসের দারোয়ান ফোনটা তুলে জানায় ওরা রেসকিউ করতে গেছে।

সেদিন রাতে কোনো কথা বলেনি নিখিল। পরদিন এই নিয়ে তুমুল বিবাদ চলে। একজন দায়িত্বজ্ঞান হীনতার তকমা পায় তো অন্যজন বলে ‘ তুই আমাকে একটুও বুঝিস না ‘ ।
একজন বলে ” সরি তো আমি বলেছি “
তো অন্যজন বলে ” হ্যা তাহলে তো সাত খুন মাফ।”
এই ভাবে পারদ চড়ে বহুক্ষণ। তারপর সেই ঝগড়ার বিষয়বস্তুর বিস্তার ঘটে বহু দূরের অতীত পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত ” ঠিক আছে আমি যখন এত খারাপ আমার সাথে আর কথাও বলতে হবেনা” বলে ফোন টা রেখে দেয় শ্রেষ্ঠা। রাখার সময় কানে আসে ” ঠিক আছে, আমি যখন তোকে বুঝিনা , সব দোষ যখন আমার আমিও ফোন কো….”
তারপরই ব্লক হয়ে যায় ঠিকানা গুলো।

আজ সকাল থেকেই মেঘ জমেছে রবিবারের অলস দুই আকাশে। স্যোশাল মিডিয়ায় চারিদিক ভরে উঠেছে অসংখ্য হ্যাশ ট্যাগ। প্রেমের এটাই হলো একটা বড়ো রোগ। শিশু যেমন যতই দুষ্টুমি করুক না কেনো, মায়ের আঁচল ধরে টানলে মায়ের মন যেমন গলতে শুরু করে, সেরকমই চারিদিয়ে প্রেম ভালোবাসা দেখলে স্মৃতির পাতায় টান পরে, আর হিমবাহ থেকে বরফ গলতে শুরু করে।

ধীরে ধীরে রাজার ঠিকানা আনব্লক হয়ে যায়, আর রানীর ফোনে ফোন আসে চেনা রিংটোনে।
রানী শুরু করে,

  • খেয়েছিস?
  • হুম, তুই ?
  • হ্যা। রাগ করে আছিস এখনও?
  • ছার এসব কথা আজ।
  • ঠিক আছে, কিন্তু এরকম ভুল আর হবেনা, ফোন টা আমি সাথে রাখবো সবসময়।
  • হুম।
  • ও হ্যা, যদিও দিনটা শেষের দিকে, তবুও Happy Valentine’s Day.
  • Happy Valentine’s Day. Love you…
    ফোনের দুই প্রান্তে দুটি মুখে মুচকি হাঁসি ফুটে ওঠে।

কিছু কিছু ভ্যালেন্টাইন্স ডে এরকমও হয়। এই ভাবেই বেঁচে থাক এই রাজা রানীরা এবং তাদের গল্পগুলো।

© রূপকথা

valentinesday

lovestory

এপার থেকে ওপার

মনে করো আমার সাথে একটা বিকেল
রঙিন প্রজাপতি বসবে আবার বাগান জুড়ে,
মনে করো চায়ের কাপে জমবে প্রহর
আকাশ কুসুম পড়ুক না সে ঝরে ঝরে;

জানি, সেই বিছানায় ঘুম আসেনা,
সঙ্গী কেবল রাতের তারা,
গাল ফুলিয়ে অভিমানে,
হঠাৎ যদি দেয় সারা!

জানি, সেই থালাটা আছে রাখা,
ধুলো মাখা আবর্জনায়,
বহুদিন হয়নি দেখা ভোর,
একসাথে পূবের জানলায়।

আমার রেখে আসা গয়না, শাড়ি,
ট্রাঙ্কে বোঝাই থাকবে জানি,
তোমার চোখে আজও কি সেই,
ধূ ধূ প্রান্তর মরুভূমি?

নাকি বয়ে গেছে নীল নদ!
সিক্ত এখন অববাহিকা।
আমায় ছাড়া সত্যিই কী
এ জগত সংসার বড্ডো একা?

খুব জানতে ইচ্ছে করে।
এপার থেকে যায়না যাওয়া ওপার,
তাই হয়না জানা আর,
আমার শূন্যস্থানে আজ কার অধিকার?

কে মায়ায় জড়ায়?
কে রাঁধে প্রিয় মাছের ঝোল?
কে রাখে আগলে তোমায়,
উড়িয়ে দিয়ে আঁচল?

আর কে দেয় মালা রোজ,
আমার বাঁধানো ফটোফ্রেমে?
জানতে ইচ্ছে করে খুব,
সকল জীবন,এই মৃত্যুতেই কি থেমে?

© রূপকথা

তাকে প্রশ্ন করোনা

তাকে প্রশ্ন করোনা

জানি সে বড্ড বেমানান আজ তোমাদের ভিড়ে।

শান্ত দুপুর,দুরন্ত বাতাস,শুকনো গোলাপ আর
একটা স্তব্ধ ঘন কালো কাজল চোখের কোনে মেঘ জমেছে তার।
সে মেঘ শধুই গর্জে ওঠে, সেখানে বর্ষণ হয়না বহুদিন ।
যেন কোনো এক অজ্ঞাত কারনে বৃষ্টি ভুলে গেছে বর্ষণের কথা।

নাইবা হল সে তোমার মতন,
নাইবা হল তোমার প্রিয়।
তবু তার অন্তর্জাত স্নিগ্ধতাকে তুমি চিনতে পারনি,
তার বেমানান হাসির কোনে লুকিয়ে থাকা এক আকাশ মেঘ তুমিও তো দেখতে পাওনি!
সে যখন ছিল সৃষ্টিছাড়া পাগলপারা ঝড়ের মতন,
যার কাছে পাহাড় প্রমান ঢেউও ছিল ক্ষুদ্র ,
তখন ও তো সে ছিল তোমার কাছে দুর্বোধ্য!
তখনও তো তার ভীতর কিছু ব্যথা ছিল, কিছু আশা ছিল, অসহায়তা ছিল, শূন্যতা ছিল।
কই, তখন তো তুমি জানতে চাওনি একটিবার ও?
তার অন্তরের সেই ঘুমন্ত মানুষ টাকে তুমি তো টেনে বের করতে পারনি?
তুমি তো পারনি তার অন্ধকার জীবনে দ্বীপের আলোয়ে আলোকিত করে দিতে?
তবে আজ যখন সে স্তব্ধ, নির্জন কোন অরন্যের ন্যায় আষ্টে-পৃষ্ঠে জরিয়ে আছে নিজেকে নিয়ে,
তখন কেন তাকে প্রশ্ন করো? কেন জানতে চাও?
কেন তার স্তব্ধতা ভাঙতে উদ্ধত হও?
কানোইবা আজ নতুন করে তার মনে ঝড় তুলতে চাও?
ভেবে দেখো, তুমিও ব্যর্থ ।তুমিও কিন্তু আকাশ ছুঁতে পারনি ।
তুমিও পারনি সেই তোলপাড় সমুদ্রের গহীন কোণ থেকে মুক্তমালা খুঁজে আনতে।
পেরেছ কি?

তবে তাকে আর প্রশ্ন করোনা।
তার দিকে আর আঙুল তুলনা।
তাকে হাড়িয়ে যেতে দাও সেই অরন্যের গহীনে।
তাকে মিশে যেতে দাও সেই অরন্যের লতায়-পাতায়।
সে ঠিক শিখে নেবে বাঁচতে,শিখে নেবে নতুন করে হাঁসতে।
শিখে নেবে তোমার থেকেও ভালো থাকতে।

তাই তাকে আর উদ্বিগ্ন করোনা।
শুধু তাকে কোনো প্রশ্ন করোনা।

© রূপকথা

শুধুবৃষ্টির জন্য

শুধুবৃষ্টির জন্য

বৃষ্টি তুমি ঝড়ছো আজ
রিমঝিম সারা বেলা,
Coffee cup আর headphone
জানলা গুলো খোলা।

বৃষ্টি তুমি ঝোড়ো হাওয়ায়
ভিজিয়ে দিলে আমায়,
ডুবেছি আমি আজ,
অজানা কোনো নেশায়।

আজ বড্ড মনে পরে,
সেই বৃষ্টির কথা।
যে বৃষ্টি সাক্ষী ছিল
বহু সুখ দুঃখ ব‍্যথা।

সেই বৃষ্টি পড়ার ব‍্যাচ এর ,
খুনসুটি প্রতিদিন।
সেই বৃষ্টি মুষলধারে
স্কুলের ক‍্যান্টিন।

সেই বৃষ্টির সাথে সেই,
অট্টোহাসির দিন।
সেই বৃষ্টি রাখতো কাঁধে
আশ্বাস অন্তহীন।

তারপর একদিন বৃষ্টি থেমে গেল,
সেই পুরনো চেনা গলিতে।
আজ নেই আনাগোনা,
আজ বৃষ্টিও নেই অপেক্ষাতে।

জানি আজ ঝড়ছো বৃষ্টি
যেমন আমার উঠানে,
হয়তো ঝড়েছে বৃষ্টি,
বৃষ্টিরও নয়নে।

বৃষ্টি তুমি তাই,
আজ বড়োই বেমানান।
বৃষ্টি তুমি যাও,
আমার আজ বড্ড অভিমান।

বৃষ্টি তুমি পুরোনো সেই বৃষ্টি কে
আমার এ চিঠি‌ দিও।
পারলে তুমি তার,
নতুন বন্ধু হয়ে যেও।।

© রূপকথা

সংশয়

মনে হলো অনেক যুগ কাটলো ।
নোনতা জলে জমেছে আর্সেনিক।
শীর্ণ ভিকারি আজও বসে পুরনো আস্তানায়,
শুধু আমিই এখন ‘ আলোকবর্ষ দূরে।’

আবেগ বোঝাই অভিমান, পাশে আছির স্পর্শ,
সবই ছিল মিছে।
মিথ্যে শহরে বলো ঘুম কি কারো আসে?
খরস্রোতা দেখেছি, পাহাড় দেখেছি,
শতাব্দীর পর শতাব্দী কেটেছে,
তবুও তারা বিশ্বাস ভাঙেনি ।
একটা কথাও তারা বলেনি জানি,
কিন্তু তার মাঝে স্বচ্ছতা আছে।

তবে তারা ক্ষমাও করতে জানে,
আজ বুঝি তাদের থেকেও কঠিন হলাম আমি।
ওই বিশালক্ষ্মীর পুরনো ভাঙ্গা মন্দিরটিকে
যে বটবৃক্ষ ভেদ করে ওঠার স্পর্ধা দেখিয়েছে,
সেই স্পর্ধা আমার নেই।

আজও দিগন্তে চোখ রাখি।
এক আদিম ইতিহাস দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে।
মনে বড়ো ভয়,কাটেনা সংশয়,
যাকিছু দেখি যা কিছু শুনি,
সত্যি সেগুলো সত্যিই বটে !

নারকীয় সমাজ

যদি হঠাৎ একদিন দেখো,
নেই, নেই কেউ চারিদিকে।
যদি হঠাৎ একদিন দেখো
শ্মশান হয়েছে অপরূপ নন্দনকানন।
যদি ঘন কুয়াশায় আবছা হয় আপন মানুষ,
ধীরে ধীরে চলে যায় দূরে, বহুদূরে ।

যদি কখনো ঘুম ভেঙ্গে দেখো
তোমার যত্নে গরা ফুল ঢেকেছে
পৈশাচিক কোনো কীটে,
পৃথিবীর সমস্ত শিশু হয়েছে সর্বনাশা
মানুষ খেকো, অফুরন্ত তাদের ক্ষুধা ।

Hunger

যদি এই মর্ত, নরক হয়ে যায়,
ক্ষুধার রাজ্যে মানুষ পিশাচ হয়ে যায়।
আপন পেটের সন্তান
হয়ে যায় ভক্ষক।
যদি এই বিশ্ব সংসারে একটিও
মানুষ না থাকে। মনুষ্যত্ব না থাকে।
সকলে মাতে ধর্ম ধর্ম খেলায়,
সকলে কোপায় রাজনীতির গলা।

বলো সেই পৃথিবী কেমন তর হবে?
সেই সমাজ কাদের মতন হবে?
তোমরা যারা ধর্ম দিয়ে পেট ভরো,
তোমরা যারা মানুষ মেরে দেশ চালাও,
শিক্ষা বেচো আর গুন্ডা পোষো,
কেমন করে গড়বে বলো সমাজ?

যেদিন বাড়বে ক্ষুধার তীব্রতা,
সেদিন আকাশ মাটি ছোঁবে।
মনুষ্যত্ব নাই যদি দিতে পারো,
এই পৃথিবী মানুষ শূন্য হবে।

ভেবেছিল সে অনেকটা আলো ছড়িয়ে দেবে

(১)

মেঘেরো একটা গল্প ছিল।
সে গল্পে একটা ছোট্ট বাড়ি ছিল।
সপ্ন ছিল সেই বাড়ির অন্দরে
ছড়িয়ে দেবে অনেকটা আলো।
হোকনা ভাঙ্গা খাট, ছোট্ট টেবিল আর ওই জং ধরা আলমারি।
যত্ন করে গুছিয়ে রাখবে।
সকাল হলে ভিজে চুলে একটু সোহাগ,
দুপুরে থালায় গুছিয়ে পঞ্চব্যঞ্জন।

কাজ শেষে দুপুর গড়িয়ে যাবে,
পরন্ত রোদে তখন সে এলিয়ে দেবে চুল।
আনমনে ভাববে যত রোজকার হিসাব
সূর্য যখন অস্ত যাবে
সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে দেবে দোরে,
অপেক্ষারত দুচোখ খনে খনে
গলির বাঁকে হারাবে আনমনে।
অবসরে ছুঁচ সুতোর লড়াই হবে,
তারপর আহার শেষে অবসন্ন দেহ
ক্লান্তিতে মিশবে শয্যা পরে ।

এমন ভাবে কাটবে দুই বেলা,
চায়ের সাথে সকাল
আর কখনো কবিতার পাতায় রাত ।
বছর ঘুরে ছোট্ট একটা পুতুল পাবে সে,
তাকে নিয়ে বুনবে আরোও কত নতুন নতুন স্বপ্ন,
নিপুণ হাতে আগলে রাখবে সপ্ন বোঝাই ঝুলি।
ভেবেছিল সে অনেক আলো ছড়িয়ে দেবে। (২)

রক্তশূন্য ক্লেশহীন চোখে
আজ আর নেই কোনো স্বপ্ন
নিরব চোখে আজ জমেছে কালো ছাই,
অঙ্গে অঙ্গে পড়েছে কালছিটে

বহুদিনের ক্লান্ত দেহে অবহেলার ছাপ,
একটা তীক্ষ্ম অবজ্ঞার হাসির রেশ
লেগে আছে শুকনো ঠোঁটের কোণে,
তা এড়িয়ে যাওয়ার সাধ্য নেই কারো।

সিলিং থেকে ঝুলছে তার দেহ,
নিস্পলক চোখে অগণিত অভিযোগ,
অচেনা হওয়া আপন জন,
পনের চাহিদা, মাঝ রাতের অত্যাচার,
ঋণগ্রস্থ বাবা,
আর ভেঙ্গে যাওয়া টুকরো টুকরো সপ্ন,
এই সবকিছুর সাক্ষী এই দেহ ।
সে চেয়েছিল গুছিয়ে একটু সংসার করতে,
চেয়েছিলো ভালোবাসতে,
আর অনেকটা আলো ছড়িয়ে দিতে। (৩)

এই বৃহৎ পৃথিবীতে, কোথাও সে পায়নি ঠাঁই।
কথা ছিলো ছড়িয়ে দেওয়ার আলো,
আজ চারিদিকে জমাট অন্ধকার।
বাতাসে যেনো ঘেন্না মিশে আছে,
জানলার তপ্ত রোদের ঝালাস,
যেনো তারই রোদের প্রতিফলন।

একবার যদি মা বলতো ,
“পুড়িয়ে ফেল পুরনো খাতা,
নতুন খাতা দেবো তোকে,
মনের মত গল্প লেখ,
নতুন করে সপ্ন দেখ,”

তাহলে হয়তো মেঘও আজ হারিয়ে যেত না,
ওই লক্ষ কোটি মেঘের মত,
মেঘের ভেলায় ভেসে,
ঘুমের দেশে।

©Rupkotha Sen

#women_harrassment

#dowry

#married_women_abuse

দীপাবলি

রাত যখন অনেকটা বেড়ে যায়,
স্বপ্নে সে আসে।
স্বপ্নে এসে মায়া চোখে তাকায়,
প্রদীপ জ্বেলে বরণ করে,
আর খিল খিলিয়ে হাসে

নাম জানিনা তার।
তবে দেখেছি অনেক বার।
গোলাপ? না না রজনীগন্ধা ।
বড়ো বড়ো অট্টালিকা হতে
নামে রঙিন আলোর জলপ্রপাত।
শহর জুড়ে তখন দীপাবলি ।

সেদিনও তার কপালে বিন্দু বিন্দু জল,
ছোট্ট হাতে জড়িয়ে সুগন্ধি মালা নিয়ে,
ট্রাফিকের গ্লানিতে যখন তিক্ত অপেক্ষা,
তখন তার চোখে একটু প্রত্যাশা ,
” ফুল নেবে গো? ফুল? রজনীগন্ধা ফুল?”
প্রত্যাখ্যানে দুচোখ জুড়ে ভাসে,
নির্লিপ্ত মায়ের মুখখানি,
বাঁচবেনা মা তার, ওষুধ না পেলে।
দুদিন খায়নি ছোট্ট ভাই।

স্বপ্নে তার ওই হাসি বড্ড বিষাক্ত লাগে।
বৃদ্ধ করে রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
আয়না জুড়ে নিজের ছবি,
জল্লাদ সম লাগে।

এই আলোকশয্যায় রঞ্জিত শহর
আড়াল করে অনেক কিছুই।
বহু ব্যর্থতা,গ্লানি, যন্ত্রণা ।
যেনো কেউ না বোঝে,
কেউ না জানে,
এই শহরের অন্দরের খবর।
আকাশ হতে আতশবাজির ছাই,
তাদের অশ্রু হয়ে নামে।

©রূপকথা সেন

সাগর পানে

যতবার দেখেছি সাগর পানে,
সুদূর থেকে হাত মেলেছে কেউ।
কে আছে ওই দিগন্তের ওপরে?
ঢেকেদিচ্ছে তাকে চঞ্চলময় ঢেউ।

তেমনি আমার হৃদয় বালুকাময়,
চোরা বালিতে ডুবছি আমি নিজেই।
ধরতাম তোমার হাতটা আমি চাইলে,
কেবল সেই ইচ্ছেটাই আর নেই।

Create your website with WordPress.com
Get started